খোলা চিঠি
ভারুয়াখালীকে প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির আবেদন

বরাবর,
মাননীয় মন্ত্রী
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ঢাকা।
মাধ্যম: জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার।
বিষয়: প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে ভারুয়াখালী ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্তির আবেদন।
মাননীয় মহোদয়,
সশ্রদ্ধ সালাম ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।
কক্সবাজারকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। এ উদ্যোগকে সফল ও বাস্তবসম্মত করতে কক্সবাজার সদর উপজেলার ২নং ভারুয়াখালী ইউনিয়নকে প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় বলে আমরা মনে করি।
ভারুয়াখালী কেবল একটি গ্রামীণ জনপদ নয়। এটি কক্সবাজার শহরের অর্থনীতি, শিক্ষা, যোগাযোগ ও ভবিষ্যৎ নগরায়ণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। নিম্নোক্ত বিষয়গুলো এ দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে—
১. জাতীয় অর্থনীতিতে লবণশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান
ভারুয়াখালীতে প্রতিবছর প্রায় ৪২ কোটি টাকার লবণ উৎপাদিত হয়। চৌফলদণ্ডী লবণকেন্দ্রের আওতাধীন ভারুয়াখালী মৌজায় প্রায় ৩০টি ঘোনায় ১,৪০০ একর জমিতে এই উৎপাদন পরিচালিত হয়। জাতীয় জিডিপিতে অবদান রাখার পাশাপাশি কক্সবাজারের লবণশিল্পে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এ অঞ্চল শিল্পায়নের যথেষ্ট সম্ভাবনা ধারণ করে এবং শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিকল্পিত উন্নয়নের দাবি রাখে।
২. শক্তিশালী স্থানীয় অর্থনীতি ও প্রবাসী আয়ের প্রভাব
ভারুয়াখালীর বার্ষিক অর্থনীতির পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এছাড়া প্রতিবছর প্রায় ১৮০ কোটি টাকার প্রবাসী রেমিট্যান্স এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়, যা স্থানীয় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই অর্থনৈতিক সক্ষমতা সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
৩. কক্সবাজার শহরের সঙ্গে নিবিড় ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক সংযোগ
অন্তত ১৮৫৪ সাল থেকে ভারুয়াখালীর জনগণ কক্সবাজার সদর উপজেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বসবাস করে আসছে। কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র প্রায় ৮ কিলোমিটার বা ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় এটি কার্যত শহরের সম্প্রসারিত অংশে পরিণত হয়েছে।
৪. উন্নত যোগাযোগ ও শিল্পায়নের সম্ভাবনা
ভারুয়াখালী নদীপথের সুবিধাসম্পন্ন একটি অঞ্চল। উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিকেই সেতু-সংযোগ থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সুবিধাজনক। এসব অবকাঠামোগত সুবিধা শিল্প, বাণিজ্য ও নগর সম্প্রসারণে বিশেষ সহায়ক।
৫. পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা
ভারুয়াখালীতে পর্যটন বিকাশেরও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলে রাখাইন জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে, যা সাংস্কৃতিক পর্যটনের আকর্ষণ হতে পারে। এছাড়া ভারুয়াখালী বাজারের দক্ষিণ পাশের বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি প্রাকৃতিক মিনি সি-বিচের আবহ বিরাজমান, যা পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটনের নতুন গন্তব্যে রূপ নিতে পারে।
৬. প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশনের ভৌগোলিক ধারাবাহিকতা
যদি প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনের আওতায় তেতৈয়া অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তবে মাত্র ৩৯২ মিটার উড়ালপথ দ্বারা সরাসরি সংযুক্ত ভারুয়াখালীকে বাদ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং নগর পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ভারুয়াখালীর অন্তর্ভুক্তি অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।
৭. শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রগামী জনপদ
ভারুয়াখালী সদর উপজেলার অন্যতম শিক্ষা-অনুরাগী অঞ্চল। এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার প্রতি জনসচেতনতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ধারা অন্যান্য অনেক অঞ্চলের তুলনায় ইতিবাচক ও অগ্রসর। একটি আধুনিক সিটি কর্পোরেশনের জন্য এ ধরনের শিক্ষাবান্ধব জনপদ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
আপনি জানেন যে,একটি সিটি কর্পোরেশন গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক সক্ষমতা, যোগাযোগ, জনঘনত্ব, নাগরিক সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ নগরায়ণের সম্ভাবনাকে একীভূত করা। এসব বিবেচনায় ভারুয়াখালী ইউনিয়ন প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনের একটি স্বাভাবিক ও যৌক্তিক অংশ হওয়ার সব ধরনের যোগ্যতা ধারণ করে।
অতএব, কক্সবাজারের সুষম ও পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের স্বার্থে ভারুয়াখালী ইউনিয়নকে প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আপনার সদয় ও আন্তরিক উদ্যোগ কামনা করছি।

বিনীত নিবেদক
ভারুয়াখালীর সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকবৃন্দের পক্ষে
আবদুল হামিদ
লেখক ও ব্যাংকার
কক্সবাজার সদর, কক্সবাজার।